বাইবেল নির্বাচন
নববিধান
বাংলা বাইবেল 2017

গালাতীয় ৩

হে অবুঝ গালাতীয়েরা, কে তোমাদেরকে মুগ্ধ করল? তোমাদেরই চোখের সামনে যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশারোপিত বলে বর্ণিত হয়নি?

আমি শুধু এই কথা তোমাদের কাছে জানতে চাই, তোমরা কি ব্যবস্থার কাজের জন্য আত্মাকে পেয়েছ? না বিশ্বাসের বার্তা শ্রবণের জন্য?

তোমরা কি এতই অবুঝ ? আত্মাতে শুরু করে এখন কি মাংসে শেষ করবে ?

তোমরা এত দুঃখ কি বৃথাই ভোগ করেছ, যদি প্রকৃতপক্ষে বৃথা হয়ে থাকে ?

অতএব, যিনি তোমাকে আত্মা জুগিয়ে দেন ও তোমাদের মধ্যে শক্তিশালী-কাজ সম্পন্ন করেন, তিনি কি ব্যবস্থার কাজের জন্য তা করেন? না বিশ্বাসের বার্তা শ্রবণের জন্য?

যেমন অব্রাহাম, “ঈশ্বরে বিশ্বাস করলেন, আর সেটাই তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হল।”

অতএব জেনো, যারা বিশ্বাস করে, তারাই অব্রাহামের সন্তান।

আর বিশ্বাসের জন্য ঈশ্বর পরজাতিদেরকে ধার্মিক বলে চিহ্নিত করেন, শাস্ত্র এটা আগে দেখে অব্রাহামের কাছে আগেই সুসমাচার প্রচার করেছিল, যথা, “তোমার থেকে সমস্ত জাতি আশীর্ব্বাদ পাবে।”

অতএব যারা বিশ্বাস করে, তারা বিশ্বাসী অব্রাহামের সাথে অাশীর্ব্বাদ পায়।

১০

বাস্তবিক যারা নিয়মের ক্রিয়া অনুযায়ী চলে, তারা সবাই অভিশাপের অধীন, কারণ লেখা আছে, “যে কেউ নিয়মগ্রন্থে লেখা সব কথা পালন করবার জন্য তাতে স্থির না থাকে, সে শাপগ্রস্থ।”

১১

কিন্তু নিয়ম পালনের মাধ্যমে কেউই ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক বলে চিহ্নিত হয় না, এটা সুস্পট, কারণ “ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের জন্য বাঁচবে।”

১২

কিন্তু নিয়ম বিশ্বাসমূলক না, বরং “যে কেউ এই সক পালন করে, সে তাতে বাঁচবে।”

১৩

খ্রীষ্টই মূল্য দিয়ে আমাদেরকে নিয়মের শাপ থেকে মুক্ত করেছেন, কারণ তিনি আমাদের জন্যে শাপস্বরূপ হলেন; কারণ লেখা আছে, “যাকে গাছে টাঙ্গান যায়, সে শাপগ্রস্ত।”

১৪

যেন অব্রাহামের পাওয়া আশীর্বাদ খ্রীষ্ট যীশুতে পরজাতিদের প্রতি আসে, আমরা যেন বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিজ্ঞার আত্মাকে পাই।

১৫

হে ভাইয়েরা, আমি মানুষের মত বলছি। মানুষের নিয়মপত্র হলেও তা যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন কেউ তা বিফল করে না, কিংবা তাতে নতুন কথা যোগ করে না।

১৬

ভাল, অব্রাহামের প্রতি ও তাঁর বংশের প্রতি প্রতিজ্ঞা সকল বলা হয়েছিল। তিনি বহুবচনে ‘আর বংশ সবের প্রতি’ না বলে, একবচনে বলেন, “আর তোমার বংশের প্রতি,” সেই বংশ খ্রীষ্ট।

১৭

এখন আমি এই বলি, যে চুক্তি ঈশ্বরের থেকে আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, চারশো ত্রিশ বছর পরে আসা নিয়ম সেই প্রতিজ্ঞাকে উঠিয়ে দিতে পারে না, যা প্রতিজ্ঞাকে বিফল করবে।

১৮

কারণ উত্তরাধিকার যদি নিয়মমূলক হয়, তবে আর প্রতিজ্ঞামূলক হতে পারে না; কিন্তু অব্রাহামকে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞার মাধ্যমেই তা দান করেছেন।

১৯

তবে নিয়ম কি ? অপরাধের কারণ তা যোগ করা হয়েছিল, যে পর্য্যন্ত না সেই বংশ আসে, যাঁর কাছে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল এবং তা দূতদের মাধ্যমে, এক জন মধ্যস্থের হাতে, বিধিবদ্ধ হল।

২০

এখন এক মধ্যস্থকারী শুধু একজনের মধ্যস্থ হয় না, কিন্তু ঈশ্বর এক।

২১

তবে নিয়ম কি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা কলাপের বিরুদ্ধে ? একেবারেই না! ফলে যদি এমন নিয়ম দেওয়া হত, যা জীবন দান করতে পারে, তবে ধার্মিকতা অবশ্য নিয়মমূলক হত।

২২

কিন্তু পরিবর্তে, শাস্ত্রে সবই পাপের অধীনে বন্দী করেছে, যেন প্রতিজ্ঞার ফল, যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের জন্য, বিশ্বাসীদেরকে রক্ষা করা যায়।

২৩

কিন্তু খ্রীষ্টে বিশ্বাস আসবার আগে আমরা নিয়মের অধীনে সীমাবদ্ধ ছিলাম, যতক্ষণ না পর্যন্ত বিশ্বাস প্রকাশিত হয়।

২৪

সুতরাং তখন নিয়ম খ্রীষ্টের কাছে আনবার জন্য আমাদের পরিচালক হয়ে উঠল, যেন আমরা বিশ্বাসের জন্য ধার্মিক বলে চিহ্নিত হই।

২৫

কিন্তু যে অবধি বিশ্বাস আসল, সেই অবধি আমরা আর পরিচালকের অধীন নই।

২৬

কারণ তোমরা সবাই খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের পুত্র হয়েছ;

২৭

কারণ তোমরা যত লোক খ্রীষ্টের উদ্দেশ্যে বাপ্তাইজিত হয়েছ, সবাই খ্রীষ্টকে পরিধান করেছ।

২৮

যিহূদী কি গ্রীক আর হতে পারে না, দাস কি স্বাধীন আর হতে পারে না, পুরুষ কি মহিলা আর হতে পারে না, কারণ খ্রীষ্ট যীশুতে তোমরা সবাই এক।

২৯

আর তোমরা যদি খ্রীষ্টের হও, তবে সুতরাং অব্রাহামের বংশ, প্রতিজ্ঞানুসারে উত্তরাধিকারী।

Bengali Bible 2017
Copyright © 2017 Bridge Connectivity Solutions