এক বছরের মধ্যে বাইবেল


জানুয়ারী ২২


আদি ১:১-৩১
১. শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন| প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না|
২. অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল|
৩. তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল|
৪. আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন|
৫. ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|” সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন|
৬. তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক্|”
৭. তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন| এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল|
৮. ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ|” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল| এটা হল দ্বিতীয় দিন|
৯. তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক্ যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়|” এবং তা-ই হল|
১০. ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর|” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
১১. তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক্, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক্| ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক্| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক| এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক|” আর তাই-ই হল|
১২. পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উৎপন্ন হল| আবার ফলদায়ী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
১৩. সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে হল তৃতীয় দিন|
১৪. তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক| এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে| এই আলোগুলি বিশেষ সভা শুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে| আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে|
১৫. পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে|” এবং তা-ই হল|
১৬. তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন| ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য| ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন|
১৭. পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন|
১৮. দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন| এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে|
১৯. সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে চতুর্থ দিন হল|
২০. তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক্ আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক্|”
২১. সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন| অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি| যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন| এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে|
২২. ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন| ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন| ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন|
২৩. সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল| এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল|
২৪. তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উৎপন্ন হোক্| নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক্ এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক্|” তখন যেমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল|
২৫. সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন| বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে|
২৬. তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি| আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব| মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত| তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে| তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে|”
২৭. তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|
২৮. ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তানসন্ততি হোক্| মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো| মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো|”
২৯. ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদায়ী গাছপালা দিচ্ছি| ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উৎ‌পাদন করে| এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য|
৩০. এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি| তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা| পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে যেসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে|” এবং এই সব কিছুই সম্পন্ন হল|
৩১. ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে| সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল| এভাবে ষষ্ঠ দিন হল|

আদি ২:১-২৫
১. এইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল|
২. যে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন|
৩. সপ্তম দিনটিকে আশীর্বাদ করে ঈশ্বর সেটিকে পবিত্র দিনে পরিণত করলেন| দিনটিকে ঈশ্বর এক বিশেষ দিনে পরিণত করলেন কারণ ঐ দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টির সমস্ত কাজ থেকে তিনি বিশ্রাম নিলেন|
৪. এই হল আকাশ ও পৃথিবীর ইতিহাস| ঈশ্বর যখন পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন যা কিছু ঘটেছিল এটা তারই গল্প|
৫. পৃথিবীতে তখন কোন গাছপালা ছিল না| মাঠে তখন কিছুই জন্মাতো না| কারণ প্রভু তখনও পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান নি এবং ক্ষেতে চাষবাস করার জন্য তখন কেউ ছিল না|
৬. পৃথিবী থেকে জল উঠে চারপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ল|
৭. তখন প্রভু ঈশ্বর মাটি থেকে ধুলো তুলে নিয়ে একজন মানুষ তৈরী করলেন এবং সেই মানুষের নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন এবং মানুষটি জীবন্ত হয়ে উঠল|
৮. তখন প্রভু ঈশ্বর পূর্বদিকে একটি বাগান বানালেন আর সেই বাগানটির নাম দিলেন এদন এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা মানুষটিকে সেই বাগানে রাখলেন|
৯. এবং সেই বাগানে প্রভু ঈশ্বর সবরকমের সুন্দর বৃক্ষ এবং খাদ্যোপযোগী ফল দেয় এমন প্রতিটি বৃক্ষ রোপণ করলেন| বাগানের মাঝখানটিতে প্রভু ঈশ্বর রোপণ করলেন জীবন বৃক্ষটি যা ভাল এবং মন্দ বিষয়ে জ্ঞান দেয়|
১০. এদন হতে এক নদী প্রবাহিত হয়ে সেই বাগান জলসিক্ত করল| তারপর সেই নদী বিভক্ত হয়ে চারটি ছোট ছোট ধারায় পরিণত হল|
১১. প্রথম ধারাটির নাম পীশোন| এই নদী ধারা পুরো হবীলা দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত|
১২. (সে দেশে সোনা রয়েছে আর তা উঁচু মানের| এছাড়া এই দেশে গন্ধদ্রব্য, গুগ্গুল আর মূল্যবান গোমেদকমণি পাওয়া যায়|)
১৩. দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন, এই নদীটি সমস্ত কুশ দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত|
১৪. তৃতীয় নদীটির নাম হিদ্দেকল| এই নদী অশূরিয়া দেশের পূর্ব দিকে প্রবাহিত| চতুর্থ নদীটির নাম ফরাৎ|
১৫. কৃষিকাজ আর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এদন বাগানে রাখলেন|
১৬. প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের যে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো|
১৭. কিন্তু যে বৃক্ষ ভালো আর মন্দ বিষয়ে জ্ঞান দেয় সেই বৃক্ষের ফল কখনও খেও না| যদি তুমি সেই বৃক্ষের ফল খাও, তোমার মৃত্যু হবে!”
১৮. তারপরে প্রভু ঈশ্বর বললেন, “মানুষের নিঃসঙ্গ থাকা ভালো নয়| আমি ওকে সাহায্য করার জন্যে ওর মত আর একটি মানুষ তৈরী করব|”
১৯. প্রভু ঈশ্বর পৃথিবীর ওপরে সমস্ত পশু আর আকাশের সমস্ত পাখী তৈরী করবার জন্য মৃত্তিকার ধূলি ব্যবহার করেছিলেন| প্রভু ঈশ্বর ঐ সমস্ত পশুপাখীকে মানুষটির কাছে নিয়ে এলেন আর মানুষটি তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম দিল|
২০. মানুষটি সমস্ত গৃহপালিত পশু, আকাশের সমস্ত পাখীর এবং অরণ্যের সমস্ত বন্য প্রাণীর নামকরণ করল| মানুষটি অসংখ্য পশু পাখী দেখল কিন্তু সে তার যোগ্য সাহায্যকারী কাউকে দেখতে পেল না|
২১. তখন প্রভু ঈশ্বর সেই মানুষঢিকে খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলেন| মানুষটি যখন ঘুমোচ্ছিল তখন প্রভু ঈশ্বর তার পাঁজরের একটা হাড় বার করে নিলেন| তারপর প্রভু ঈশ্বর যেখান থেকে হাড়টি বার করেছিলেন সেখানটা চামড়া দিয়ে ঢেকে দিলেন|
২২. প্রভু ঈশ্বর মানুষটির পাঁজরের সেই হাড় দিয়ে তৈরি করলেন একজন স্ত্রী| তখন সেই স্ত্রীকে প্রভু ঈশ্বর মানুষটির সামনে নিয়ে এলেন|
২৩. এবং সেই মানুষটি বলল, “অবশেষে আমার সদৃশ একজন হল| আমার পাঁজরা থেকে তার হাড়, আর আমার শরীর থেকে তার দেহ তৈরী হয়েছে| যেহেতু নর থেকে তার সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু “নারী” বলে এর পরিচয় হবে|”
২৪. এইজন্য পুরুষ পিতামাতাকে ত্যাগ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং এইভাবে দুজনে এক হয়ে যায়|
২৫. তখন নরনারী উলঙ্গ ছিল, কিন্তু সেজন্যে তাদের কোন লজ্জাবোধ ছিল না|

গীতসংহিতা ১:১-৬
১. একজন ব্যক্তি প্রকৃত সুখী হবে যদি সে মন্দ লোকের পরামর্শে না চলে, যদি সে পাপীদের মত জীবনযাপন না করে, যদি সে তাদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে–যারা ঈশ্বরকে অশ্রদ্ধা করে|
২. একজন সৎ‌ ব্যক্তি প্রভুর শিক্ষাকে ভালোবাসে| সে প্রভুর শিক্ষা বিষয়ে দিনরাত চিন্তা করে|
৩. এই জন্য সেই ব্যক্তি নদীর ধারে পোঁতা গাছের মত শক্ত ও দৃঢ় হয়| যে গাছ ঠিক সময় ফল দেয়, সেই লোক সেই গাছের মত হয়| সেই লোক, সেই গাছের মতই হয়, যার পাতা কোনদিন ঝরে যায় না| সে যা কিছু করে, সবই সফল হয়|
৪. মন্দ লোকরা সে রকম নয়| মন্দ লোকরা বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া তুষের মত|
৫. সৎ‌ লোকরা যদি একটা বিচারের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য একত্রিত হয়, তবে মন্দ লোকরা অপরাধী হিসেবেই প্রমাণিত হবে| সেই পাপীরা, বিচারে সরল নিষ্পাপ বলে প্রমাণিত হবে না|
৬. কেন? কারণ প্রভু সৎ‌ লোকদের রক্ষা করেন, কিন্তু মন্দ লোকদের বিনাশ করেন|

হিতোপদেশ ১:১-৭
১. এই নীতি-কথাগুলি দায়ুদের পুত্র শলোমনের জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা| শলোমন ছিলেন ইস্রায়েলের রাজা|
২. মানুষকে জ্ঞানী করে তোলা এবং তাদের সঠিক পথের সন্ধান দেওয়াই এই কথাগুলির উদ্দেশ্য| এই কথাগুলির মাধ্যমে লোকে জ্ঞানগর্ভ শিক্ষামালা অনুধাবন করতে পারবে|
৩. এই কথাগুলি লোকদের সঠিক পথ বুঝতে সাহায্য করে| মানুষ সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতার পথ শিখবে|
৪. যাঁরা জ্ঞান অর্জন করতে চান সেই লোকদের এই কথাগুলি শিক্ষা প্রদান করবে| এই জ্ঞান কি করে প্রয়োগ করতে হবে এই শিক্ষামালা যুবসম্প্রদায়কে তাও শিখিয়ে দেবে|
৫. এমনকি জ্ঞানী ব্যক্তিদেরও এই নীতি-কথাগুলি শোনা উচিৎ‌| এই শিক্ষামালার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞানের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পাবে, তাঁরা আরো পণ্ডিত হয়ে উঠবেন| যে সব লোক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দক্ষ তাঁরা আরও বেশী বোধ লাভ করবেন|
৬. তখন ঐসব লোকরা জ্ঞানপূর্ণ রচনাবলী এবং কাহিনীসমূহ যাদের মধ্যে রূপক অর্থ রয়েছে সেগুলো বুঝতে পারবেন| তাঁরা জ্ঞানবানদের কথাগুলি অনুধাবন করতে সফল হবেন|
৭. প্রভুকে মান্য করা এবং শ্রদ্ধা করাই হল মানুষের সর্বপ্রথম কর্তব্য| এটা তাদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে| কিন্তু শয়তান বোকারা অনুশাসন এবং যথার্থ জ্ঞানকে ঘৃণা করে|

ম্যাথু ১:১-২৫
১. এই হল যীশু খ্রীষ্টের বংশ তালিকা৷ ইনি ছিলেন রাজা দায়ূদের বংশধর, দায়ূদ ছিলেন অব্রাহামের বংশধর৷
২. অব্রাহামের ছেলে ইসহাক৷ ইসহাকের ছেলে যাকোব৷ যাকোবের ছেলে যিহূদা ও তার ভাইরা৷
৩. যিহূদার ছেলে পেরস ও সেরহ৷ (এদের মায়ের নাম তামর৷) পেরসের ছেলে হিষ্রোণ৷ হিষ্রোণের ছেলে রাম৷
৪. রামের ছেলে অম্মীনাদব৷ অম্মীনাদবের ছেলে নহশোন৷ নহশোনের ছেলে সল্মোন৷
৫. সল্মোনের ছেলে বোয়স৷ (এর মায়ের নাম রাহব৷) বোয়সের ছেলে ওবেদ৷ এর মায়ের নাম রূত্৷ ওবেদের ছেলে যিশয়৷
৬. যিশয়ের ছেলে রাজা দায়ূদ৷ দায়ূদের ছেলে রাজা শলোমন৷ (এর মা ছিলেন ঊরিয়ের বিধবা স্ত্রী৷)
৭. শলোমনের ছেলে রহবিয়াম৷ রহবিয়ামের ছেলে অবিয়৷ অবিয়ের ছেলে আসা৷
৮. আসার ছেলে যিহোশাফট৷ যিহোশাফটের ছেলে যোরাম৷ যোরামের ছেলে উষিয়৷
৯. উষিয়ের ছেলে যোথম৷ যোথমের ছেলে আহস৷ আহসের ছেলে হিষ্কিয়৷
১০. হিষ্কিয়ের ছেলে মনঃশি৷ মনঃশির ছেলে আমোন৷ আমোনের ছেলে যোশিয়৷
১১. যোশিয়ের ছেলে যিকনিয় ও তার ভাইরা৷ বাবিলে ইহুদীদের নির্বাসনের সময় এঁরা জন্মেছিলেন৷
১২. যিকনিয়ের ছেলে শল্টীয়েল৷ ইনি বাবিলে নির্বাসনের পর জন্মেছিলেন৷ শল্টীয়েলের ছেলে সরুব্বাবিল৷
১৩. সরুব্বাবিলের ছেলে অবীহূদ৷ অবীহূদের ছেলে ইলীয়াকীম৷ ইলীয়াকীমের ছেলে আসোর৷
১৪. আসোরের ছেলে সাদোক৷ সাদোকের ছেলে আখীম৷ আখীমের ছেলে ইলীহূদ৷
১৫. ইলীহূদের ছেলে ইলিয়াসর৷ ইলিয়াসরের ছেলে মৎতন৷ মৎতনের ছেলে যাকোব৷
১৬. যাকোবের ছেলে যোষেফ৷ এই যোষেফই ছিলেন মরিয়মের স্বামী এবং মরিয়মের গর্ভে যীশুর জন্ম হয়, যাঁকে মশীহ বা খ্রীষ্ট বলে৷
১৭. এইভাবে অব্রাহাম থেকে দায়ূদ পর্যন্ত মোট চৌদ্দ পুরুষ৷ দায়ূদের পর থেকে বাবিলে নির্বাসন পর্যন্ত মোট চৌদ্দ পুরুষ এবং বাবিলে নির্বাসনের পর থেকে খ্রীষ্টের আগমন পর্যন্ত মোট চৌদ্দ পুরুষ৷
১৮. এই হল যীশু খ্রীষ্টের জন্ম সংক্রান্ত বিবরণ: যোষেফের সঙ্গে তাঁর মা মরিয়মের বাগদান হয়েছিল; কিন্তু তাঁদের বিয়ের আগেই জানতে পারা গেল যে পবিত্র আত্মার শক্তিতে মরিয়ম গর্ভবতী হয়েছেন৷
১৯. তাঁর ভাবী স্বামী যোষেফ ন্যায়পরায়ণ লোক ছিলেন৷ তিনি মরিয়মকে লোক চক্ষে লজ্জায় ফেলতে চাইলেন না, তাই তিনি মরিয়মের সাথে বিবাহের এই বাগদান বাতিল করে গোপনে তাকে ত্যাগ করতে চাইলেন৷
২০. তিনি যখন এসব কথা চিন্তা করছেন, তখন প্রভুর এক দূত স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, “যোষেফ, দায়ূদের সন্তান, মরিয়মকে তোমার স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে ভয় করো না, কারণ তার গর্ভে যে সন্তান এসেছে, তা পবিত্র আত্মার শক্তিতেই হয়েছে৷
২১. দেখ, সে এক পুত্র সন্তান প্রসব করবে, তুমি তাঁর নাম রেখো যীশু, কারণ তিনি তাঁর লোকদের তাদের পাপ থেকে উদ্ধার করবেন৷”
২২. এই সব ঘটেছিল যাতে ভাববাদীর মাধ্যমে প্রভু যা বলেছিলেন তা পূর্ণ হয়৷
২৩. “শোন এক কুমারী গর্ভবতী হবে, আর সে এক পুত্র সন্তান প্রসব করবে, তারা তাঁকে ইম্মানূয়েল যার অর্থ ‘আমাদের সঙ্গে ঈশ্বর’ বলে ডাকবে৷”
২৪. যোষেফ ঘুম থেকে উঠে প্রভুর দূতের আদেশ অনুসারে কাজ করলেন৷ তিনি মরিয়মকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে গেলেন৷
২৫. কিন্তু মরিয়মের সেই সন্তানের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত যোষেফ মরিয়মের সঙ্গে সহবাস করলেন না৷ যোষেফ সেই সন্তানের নাম রাখলেন যীশু৷