এক বছরের মধ্যে বাইবেল
অগাস্ট ২০


রোমানরা ৩:১-৩১
১. তবে যিহূদীদের বিশেষ সুবিধা কি আছে? এবং ত্বকছেদ করেই বা লাভ কি? এটা সব দিক থেকে মহান।
২. প্রথম হলো এই যে, ঈশ্বরের বাক্য তাদের কাছেই দিয়েছিলেন।
৩. কারণ কোনো যিহুদী যদি অবিশ্বাসী হয়ে থাকে তাতেই বা কি? তাদের অবিশ্বাস কি ঈশ্বরের বিশ্বস্ততাকে ফলহীন করবে?
৪. তার কোনো মানে নেই। বরং, এমন কি প্রতিটি মানুষ মিথ্যাবাদী হলেও ঈশ্বরকে সত্য বলে স্বীকার করা হোক। যেমন শাস্ত্রে লেখা আছে, “তুমি হয়ত তোমার বাক্যে ধর্ম্মময় বলে গণ্য হও, এবং তুমি বিচারের সময় জয়ী হবে।”
৫. কিন্তু আমাদের অধার্ম্মিকতা ঈশ্বরের ধার্মিকতা বুঝতে সাহায্য করে, আমরা তখন কি বলব? ঈশ্বর অধার্মিক নয় যিনি ক্রোধে প্রতিফল দেন, তিনি কি অন্যায় করেন?- আমি মানুষের তর্কশাস্ত্র অনুযায়ী বলছি।
৬. ঈশ্বর কখনো অন্যায় করেন না। কারণ তা হলে ঈশ্বর কেমন করে পৃথিবীর মানুষকে বিচার করবেন?
৭. কিন্তু আমার মিথ্যার মাধ্যমে যদি ঈশ্বরের সত্য প্রকাশ পায় এবং তাঁর গৌরব উপচিয়া পড়ে, তবে আমি এখনও পাপী বলে বিচারিত হচ্ছি কেন?
৮. আর কেনই বা বলব না- যেমন আমাদের অনেক মন্দ আছে, এবং যেমন অনেকে নিন্দা করে বলে যে আমরা বলে থাকি- ‘চল আমরা খারাপ কাজ করি, তবে যেন ভালো ফল পাওয়া যায়’? তাদের জন্য শাস্তি অবশ্যই আছে।
৯. তার পর কি হলো? আমাদের অবস্থা কি অন্যদের থেকে ভালো? তা মোটেই নয়। কারণ আমরা এর আগে যিহূদী ও গ্রীক উভয়কে দোষ দিয়েছি যে, তারা সবাই পাপের মধ্যে আছে।
১০. যেমন শাস্ত্রে লেখা আছে, “ধার্মিক কেউ নেই, এক জনও নেই,
১১. এমন কেউই নেই যে সে বোঝে। কেউই এমন নেই যে সে ঈশ্বরের সন্ধান করে।
১২. তারা সবাই বিপথে গিয়েছে, তারা একসঙ্গে অকেজো হয়েছে; এমন কেউ নেই যে ভালো কাজ করে, না, এতজনের মধ্যে একজনও নেই।
১৩. তাদের গলা যেন খোলা কবরের মত। তাদের জিভ ছলনা করেছে। তাদের ঠোঁটের নিচে সাপের বিষ থাকে।
১৪. তাদের মুখ অভিশাপ ও খারাপ কথায় পরিপূর্ণ;
১৫. তাদের পা খুন করার জন্য জোরে চলে।
১৬. তাদের রাস্তায় ধ্বংস ও যন্ত্রণা থাকে।
১৭. তাদের কোনো শান্তির পথ জানা নেই।
১৮. তাদের চোখে কোনো ঈশ্বর ভয় নেই।”
১৯. এখন আমরা জানি যে, আইনে যা কিছু বলেছে, তা আইনের মধ্যে আছে এমন লোককে বলেছে; যেন প্রত্যেক মানুষের মুখ বন্ধ এবং সব পৃথিবীর মানুষ ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হয়।
২০. এর কারণ হলো আইনের কাজ দিয়ে কোন প্রাণী তাঁর সামনে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হবে না। কারণ আইন দিয়ে পাপের জ্ঞান আসে।
২১. কিন্তু এখন আইন কানুন ছাড়াই ঈশ্বরের ধার্মিকতা প্রকাশ হয়েছে, আর আইন কানুন ও ভবিষ্যত বক্তার মাধ্যমে তার জন্য সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে।
২২. ঈশ্বরের সেই ধার্মিকতা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে যারা সবাই বিশ্বাস করে তাদের জন্য। কারণ সেখানে কোনো বিভেদ নেই।
২৩. কারণ সবাই পাপ করেছে এবং ঈশ্বরের গৌরব-বিহীন হয়েছে,
২৪. সবাই বিনামূল্যে তাঁরই অনুগ্রহে, খ্রীষ্ট যীশুতে প্রাপ্য মুক্তির মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণ্য হয়।
২৫. তাঁকেই ঈশ্বর তাঁর রক্তের বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্ত করেছেন অর্থাৎ তাঁর জীবন উত্সর্গ করেছেন; যেন তিনি নিজের ধার্মিকতা দেখান- কারণ ঈশ্বরের সহ্যের গুনে মানুষের আগের পাপগুলির কোনো শাস্তি দেয় নি।
২৬. আর এইগুলি হয়েছে যেন নিজের ধার্মিকতা দেখান, কারণ যেন তিনি নিজে ধার্মিক থাকেন, এবং যে কেউ যীশুতে বিশ্বাস করে তাকেও ধার্মিক বলে গণ্য করেন।
২৭. তবে গর্ব কোথায় থাকলো? তা দূর হয়েছে। কিন্তু কিসের জন্য নেই? কাজের জন্য কি? না; কিন্তু বিশ্বাসের আইনের জন্যই।
২৮. কারণ আমাদের মিমাংসা হলো আইন কানুনের কাজ ছাড়াই বিশ্বাসের মাধ্যমেই মানুষ ধার্মিক বলে বিবেচিত হয়।
২৯. ঈশ্বর কি কেবল যিহূদীদের ঈশ্বর? তিনি কি পরজাতীয়দেরও ঈশ্বর নন? হাঁ, তিনি পরজাতীয়দেরও ঈশ্বর।
৩০. কারণ ঈশ্বর এক, তিনি ছিন্নত্বক্ লোকদেরকে বিশ্বাসের জন্য, এবং অচ্ছিন্নত্বক্ লোকদেরকে বিশ্বাসের মাধ্যমে ধার্মিক বলে গণনা করবেন।
৩১. তবে আমরা কি বিশ্বাস দিয়ে আইন কানুন বন্ধ করছি? তা কখনই না; বরং আমরা আইন কানুন প্রমাণ করছি।